অনলাইন প্লাষ্টিক ফেয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীরপ্তানি পণ্য বহুমুখিকরণে একশ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার


Published: 2021-06-19 17:39:50 BdST, Updated: 2021-09-28 07:22:16 BdST

 

 

বিজনেস ওয়াচ প্রতিবেদক:

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি বলেছেন, রপ্তানি পণ্য হিসেবে প্লাস্টিক সেক্টরকে সরকার অগ্রাধীকার দিয়েছে। দেশের বর্তমান রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৮৪ ভাগ দখল করে আছে তৈরী পোশাক খাত, এটা খুবই ঝুকিপূর্ণ। তাই সরকার দেশের রপ্তানি পণ্যসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য প্লাস্টিক, চামড়া, কৃষি, আইসিটি এবং ফার্মাসিটিকেল সেক্টরকে অগ্রাধিকার দিয়ে রপ্তানি নীতি প্রনয়ণ করেছে। এ সেক্টরগুলোকে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল, প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একশত মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে স্থাপিত টেকনোলজি সেন্টরে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরী, কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি করে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে ৯০ হাজার দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা হবে।

 বাণিজ্যমন্ত্রী আজ শনিবার (১৯ জুন) ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এ বাংলাদেশ প্লাষ্টিক গুড্স ম্যান্যুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) অনলাইনে চার দিনব্যাপী ‘১৫তম বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল প্লাষ্টিক, প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাষ্ট্রি ফেযার-২০২১’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে  ইয়র্কার্স ট্রেড এন্ড মার্কেটিং সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট জুডি ওয়াং বক্তব্য দেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্লাষ্টিক বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্প, দ্রুত এ শিল্পের প্রসার ঘটছে। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ব্যাবসা-বাণিজ্যে দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। বিভিন্ন উন্নতদেশে প্রতিযোগিতা করে বাণিজ্যে টিকে থাকতে হবে। এলডিসি গ্রাজুয়েশনের পর বাণিজ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সরকার বিভিন্ন দেশের সাথে পিটিএ বা এফটিএ এর মতো চাণিজ্য চুক্তি করে বাণিজ্য সুবিধা নেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মহান জাতীয় সংসদে বাণিজ্যবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে। আশা করা যায় দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও শক্তভিত্তির উপর দাড়াঁবে। আধুনিক টেকনোলজির ব্যবহার, দক্ষ জনশক্তি দিয়ে নতুন নতুন ডিজাইন তৈরী করে বিশ্ববাজার দখল করতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সবধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আইপিএফ অনলাইন এক্সপো এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন বিশ্বব্যাপী এবং আমাদের দেশেও কোভিড মহামারী পরিস্থিতি প্রায় অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে। আইপিএফ অনলাইন এক্সপো আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি করতে এবং ভৌগলিক বিধিনিষেধ ছাড়িয়ে বিপুল সংখ্যক সম্ভাব্য গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রদর্শনকারীদের জন্য আদর্শ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠবে। বিপিজিএমইএ তাদের সহযোগী অংশীদার চাঞ্চাও ইন্টারন্যাশনালের সাথে প্রথমবারের জন্য আয়োজিত। আমি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।

তিনি আরো বলেন, প্লাস্টিক এমন একটি পণ্য যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে প্রয়োজনীয় এবং অন্যান্য শিল্পেও অবদান রাখে। প্লাস্টিক খাতের বিকাশ  তিনি তিনটি খাতকে চিহ্নিত করে বলেন, বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাত, হাউস হোল্ড আইটেম এবং খেলনা খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে। আমাদের সরকার রফতানি খাতের উন্নয়নে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির জন্য বছরে .২.২% বাড়িয়েছে। এই জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে আমাদের অবশ্যই আমাদের অর্থনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে হবে। এই জাতীয় অনলাইন মেলা আমাদের জিডিপিতে অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ বলেন, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম মেগা প্রদর্শনী হলো ইন্টারন্যাশনাল প্লাস্টিক ফেয়ার (আইপিএফ) । এবারের আইপিএফ-এ বিশ্বের ২৫ টি দেশ থেকে প্রায় ৪০০ জন নিবন্ধিত মোট অংশগ্রহণকারীরা প্লাস্টিক প্রক্রিয়া প্রযুক্তি, অটোমেশন, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, পণ্য, রঙিন মাস্টার বেসগুলি সংযোজন এবং অটোমেশন এবং আরও অনেক কিছুর প্রদর্শন করবেন। বাংলাদেশ থেকে ৭৩৩ টি প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল মার্কেটপ্লেসে তাদের পণ্যাদির সাথে শোতে অংশ নিচ্ছে। আমরা আশা করছি এবারের আইপিএফে স্টেকহোল্ডার ও পেশাদার গবেষকরা অংশ গ্রহণ করবেন। এর ফলে প্লাস্টিক খাতের রফতানিকারকরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতা-বিক্রেতাদের খুঁজে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

তিনি আরে বলেন, কোভিট পান্ডেমিকের কারণে এশিয়াতে বেশিরভাগ প্রদর্শনী যেমন ক্যান্টন ফেয়ার, চায়না প্লাস, তাইপেই প্লাস ইতিমধ্যে অনলাইন মেলা শুরু হয়েছে। তাই আমরা বিপিজিএমইএ এবং আমাদের অংশীদার একটি অনলাইন প্রদর্শনী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে আমাদের অংশগ্রহণকারীরা শোতে অংশ নিয়ে প্রচুর আগ্রহ দেখিয়েছে। এটি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে এক ধাপ এগিয়ে। পরে ‘প্লাস্টিক খাতের বর্তমান অবস্থান, রফতানি সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ’ এবং প্লাস্টিক বজ্য ব্যবস্থাপনার উপর দুটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ইন্টারন্যাশনাল প্লাষ্টিক ফেয়ার (আইপিএফ) অনলাইন এক্সপো আগামী ৫-৮ জুলাই চলবে। এক্সপোতে ১৯টি দেশের প্রায় ৪৮৩টি প্লাষ্টিক কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, চায়না, ইজিপ্ট, ইথিওপিয়া, হংকং,ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সুদান, তাইওয়ান, থাইল্যন্ড, তুরষ্ক, সংযুক্ত আরব আমীরাত এবং ভিয়েতনাম। দর্শনার্থীগণ অনলাইনে যুক্ত হয়ে মেলায় প্রদর্শীত সকল পণ্য দেখার সুযোগ পাবেন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।