চট্টগ্রামে নারী-উদ্যোক্তা-ব্যাংকার ম্যাচমেকিং সভাপ্রণোদনার ঋণ বিতরণে নিয়মকানুন সহজ করার আহবান এসএমই ফাউন্ডেশনের


Published: 2021-09-23 18:10:36 BdST, Updated: 2021-10-25 16:32:39 BdST

নিজস্ব প্রতিবেদক:ক্ষুদ্র ও নারী-উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নিয়মকানুন সহজ করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহবান জানিয়েছেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ মফিজুর রহমান।  বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর)  চট্টগ্রামে নারী-উদ্যোক্তা-ব্যাংকার ম্যাচমেকিং সভায় এ আহবান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছরে এসএমই ফাউন্ডেশনের বিতরণকৃত ১০০ কোটি টাকার ৬৬.৭৫ শতাংশ পুরুষ উদ্যোক্তা এবং ৩৩.২৫ শতাংশ ঋণ নারী-উদ্যোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়। চলতি অর্থবছরেও ২০০ কোটি টাকার মধ্যেও আরো বেশি নারী-উদ্যোক্তার মাঝে বিতরণ করতে চায় এসএমই ফাউন্ডেশন। এজন্য সারাদেশে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের জন্য কাগজপত্র তৈরি, নিয়মকানুন সম্পর্কে অবহিত করা, ব্যাংকারদের সাথে ম্যাচমেকিংসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই ২০০ কোটি টাকা বিতরণ শেষ করে সরকারের কাছে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য আরো অর্থ দাবি করার ব্যপারে আশাবাদী তিনি।  চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রেসিডেন্ট ইন-চার্জ আবিদার মোস্তফার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন খান।

ড. মফিজুর রহমান আরো বলেন, গত অর্থবছরে মোট ঋণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তার ৮৩.২৪ শতাংশ উদ্যোক্তাই ছিলেন ঢাকার বাইরের। সেই ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও প্রণোদনার অর্থ বেশি পরিমাণে দেশের পল্লী ও প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে এরই মধ্যে ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সই করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন।

 

করোনাভাইরাস (কোাভিড-১৯) পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রণোদনার আওতায় মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের মাঝে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে এসএমই ফাউন্ডেশন। চলতি অর্থবছরে আরো ২০০ কোটি টাকা এসএমই ফাউন্ডেশনের অনুকূলে বরাদ্দ দেয় অর্থ বিভাগ।

উল্লেখ্য, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তাগণ ১ লাখ-৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাবেন। ঋণের সুদেও হার ৪ শতাংশ। ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ দেয়ার চেষ্টা করা হবে। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকের চাহিদাকৃত ডকুমেন্টসহ ‘সম্পূর্ণ/পরিপূর্ণ ঋণ আবেদনপত্র’ ব্যাংকের নিকট দাখিলের দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঋণ মঞ্জুর করে গ্রাহকের অনুকূলে বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। সাধারণভাবে একক ও যৌথ মালিকানাধীন উদ্যোগের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে প্রান্তিক ক্ষুদ্র, বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ৫জন উদ্যোক্তার অনুকূলে গ্রুপভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা যাবে। গত অর্থবছরের অভিজ্ঞতার আলোকে এসএমই ফাউন্ডেশন অংশীদার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা করে উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক এক/একাধিক শাখায় ফোকাল কর্মকর্তা নির্ধারণ করবে। উদ্যোক্তারা ফোকাল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন। ফোকাল কর্মকর্তা এসএমই ফাউন্ডেশন, ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও শাখা এবং উদ্যোক্তাদের সাথে সমন্বয় করবেন। ২০২১-২২ অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে ১৯টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।