মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০

উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণে কানেক্টিভিটি বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করলেন উজবেক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী


Published: 2023-05-19 03:40:19 BdST, Updated: 2024-02-27 03:38:39 BdST


নিজস্ব প্রতিবেদক: উজবেকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে সুনির্দিস্ট প্রস্তাব দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সফররত উজবেকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাখরোম আলয়েভের। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বিস্তৃত করার সময় এসেছে। দু দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে কানেক্টিভিটির উপর গুরুত্ব দিতে হবে । পরিবহন ও যোগাযোগ একটি উদ্বেগের বিষয় ছিলো। সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশ উজবেকস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তানের বন্দর ব্যবহার করে কিংবা উজবেকিস্তান-তুর্কিমেনিস্তান-ইরানের চাবাহার বন্দর ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করতে পারে। এছাড়া ফ্রুট ও ভেজিটেবল জাতিয় পণ্যের জন্য সরাসরি বিমানে কার্গো ফ্লাইট চালু করা যেতে পারে। এতে দুদেশই লাভবান হবে। এজন্য তিনি এফবিসিসিআইকে উজবেকিস্তান সফর করার এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা অন্বেষণের আমন্ত্রণ জানান। এছাড়াও তিনি দুদেশের মধ্যে মেডিকেল ট্যুরিজম চালুর প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে মেডিসিন নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৃহস্পতিবার(১৮ মে) উজবেকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্র বাখরোম আলয়েভের নেতৃত্বে উজবেকিস্তান প্রতিনিধিদল ও ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) মধ্যে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। এফবিসিসিআই কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এফবিসসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী, বর্তমান সহসভাপতি আমিন হেলালী, মোঃ হাবীব উল্লাহ ডন, পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রীতি চক্রবর্তী, বিজয় কেজরিওয়াল, আনোয়ার শাদত সরকারসহ অন্যান পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।


সভায় উজবেকিস্তানে যৌথ উদ্যোগে সারকারখানা করার প্রস্তাব দিয়ে বলেন, উজবেকিস্তান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও প্রবৃদ্ধির অংশীদার। উচ্চ পর্যায়ের সফর এবং অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশই গতি পেয়েছে। দেন ঢাকা-তাসখন্দ সম্পর্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা। টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও আসিয়ান দেশগুলোর আঞ্চলিক প্রবেশদ্বার এবং এশিয়ার দুই জায়ান্ট ভারত ও চীনের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংযোগ হিসেবে কাজ করছে। তিনি আধুনিক অবকাঠামোসহ ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল, ৩০ টি আইটি পার্ক এবং পর্যটন পার্ক তৈরি করার কথা উল্লেখ করে বলেন, উজবেকিস্তান এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে ব্যবসা শুরু করতে পারে বলে। এছাড়া পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, হিমায়িত সামুদ্রিক খাবার, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক, পাট ও চামড়াজাত পণ্য, আইসিটি, এফএমসিজি, হোম অ্যাপ্লায়েন্স এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক শক্তি রয়েছে। উজবেক বাংলাদেশ থেকে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য এবং জেনেরিক ওষুধ আমদানি করতে পারে। এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি মোঃ আমিন হেলালী বলেন, আজকের এই আয়োজন বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানকে পারস্পরিক বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।