সোমবার, ৫ ডিসেম্বার, ২০২২, ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কারখানা চালু রেখে দেশের চাহিদা পূরণ করুন: শিল্পপতিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী


Published: 2022-11-20 14:27:36 BdST, Updated: 2022-12-05 03:47:10 BdST


নিজস্ব প্রতিবেদক : রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আর নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্কটের কথা তুলে ধরে দেশের শিল্প মালিকদের কারখানা চালু রেখে মানুষের চাহিদা পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “অর্থনৈতিক ধাক্কাটা, এটা সারা বিশ্বব্যাপী লেগেছে। আমাদের বাংলাদেশও তার থেকে ব্যতিক্রম না। তারপরও আমি বলব, অন্তত আমাদের অর্থনীতির গতিশীলতা যাতে অব্যাহত থাকে, সেই ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রোববার দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৫০টি শিল্প অবকাঠামোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে আমদানিপণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার ফলে অনেক দেশ আজকে আপনারা দেখেছেন যে অর্থনৈতিক মন্দা নিজেরাই ঘোষণা দিয়ে গেছে। ইকোনমিক বিশ্লেষণই বলছে… বাংলাদেশ, এখনো আমি বলতে পারি যে, আমরা অত খারাপ অবস্থায় নেই।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পপতিদের উদ্দেশে সরকারপ্রধান বলেন, অনুরোধ করব, যার যার নিজের ইন্ডাস্ট্রি চালিয়ে অন্তত নিজের দেশের মানুষের চাহিদাটা পূরণ করবার প্রচেষ্টা আপনারা নেবেন। কারণ আপনাদের জন্য অনেক সুযোগ সুবিধা আওয়ামী লীগ সরকার করে দিয়েছে। এখন আর হাওয়া ভবন নাই যে আপনাদেরকে কোনো কাজ পেতে হলে হাওয়া ভবনে পাওনা বোঝাতে হয় বা এখানে-ওখানে ছুটাছুটি করতে হয়। আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে ‘সব ধরনের নিয়ম শৃঙ্খলার মধ্যে’ নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে। সেই ব্যবসার ক্ষেত্রটা প্রস্তুত করা, সুযোগ সুবিধা দেওয়া, সেটা কিন্তু আমরা করে দিচ্ছি। কাজেই সেইক্ষেত্রে আমি বলব যে প্রত্যেকে আপনারা… দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। যত বেশি মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের সহযোগিতা করব। কিন্তু এমন কিছু করবেন না, যেখানে মানুষ কষ্ট পায় বা মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সারা বিশ্বে খাদ্যের অভাবের কারণে বাংলাদেশ উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মিরসরাই শিল্প অঞ্চলে যে সমস্ত ফসলি জমি রয়ে গেছে, সেগুলোতে ফসল হবে।

জাপান ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একপাশে ইন্ডাস্ট্রি, আরেক পাশে পুরো ধানক্ষেত। আমি ধানক্ষেতে নিজে নেমে দেখে এসেছি। কাজেই আমাদের দেশেও সেভাবে হতে পারে। আমরা সেটাই চাই। আমাদের ফসলি জমি যেন নষ্ট না হয়, আর যেসব জমি ব্যবহার হয় না কোনো কাজে, সেই ধরনের জায়গায় যদি শ্রমিকদের আবাসনের ব্যবস্থা আপনার করে দেন, তাহলে আপনার শ্রমিকরা ভালো থাকলে তাদের কাছ থেকে অধিক কাজ পাবেন, উৎপাদনশীলতা বাড়বে এবং তাদেরকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থাও আমাদের করা আছে। দেশের একশ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জমি আগেই নেওয়া হয়েছে এবং ধীরে ধীরে উন্নয়ন করে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগের জন্য আসছে। আমরা একেকটা দেশের জন্য একেকটা খণ্ডে জমি দিয়ে দিচ্ছি। তাদের দেশ থেকে যে সমস্ত কোম্পানি আসবে, এটা সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়বে এবং সেই সাথে সাথে আমার দেশের যেটা প্রয়োজন, সেই চাহিদাও মেটাবে, বিদেশেও রপ্তানি করতে পারবে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে এ অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বক্তব্য রাখেন।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।