শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১

বাজার অস্থিরতার সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো : এফবিসিসিআই সভাপতি


Published: 2023-09-12 17:46:37 BdST, Updated: 2024-07-13 05:03:55 BdST


নিজস্ব প্রতিবেদক : ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফবিসিসিআই) সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেছেন, যে কোনো সৎ ব্যবসায়ীর জন্য এফবিসিসিআই সবসময় পাশে থাকবে এবং অসৎ ব্যবসায়ীর জন্য এফবিসিসিআই কখনই কোনো অ্যাডভোকেসি করবে না। তিনি বলেন, কৃত্রিম সংকট যারা করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পণ্যের সংকট সৃষ্টি ও বাজার অস্থিরতার সাথে জড়িত প্রতিষ্ঠান যত বড় প্রভাবশালী হোক না কেন আমরা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবো। চাহিদা ও যোগানের সাথে মিল রেখে সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকলে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সোমবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির আয়োজনে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। এসময় এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে। আমাদের কাজে সরকারি অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংস্থা বিশেষত ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) উল্লেখযোগ্যভাবে সহযোগিতা করছে। ব্যবসায়ীরাই আমাদের এ দেশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আমাদের দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে প্রাইভেট সেক্টরের একটা বড় অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সৎ ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা করবে। ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অধিদপ্তর চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন ভোক্তাদের সচেতনতা। ভোক্তারা যতদিন পর্যন্ত তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হবে ততদিন পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে না। ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক ও খামারিদের স্বার্থ বিবেচনায় সময়ে সময়ে কিছু পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং ভোক্তা স্বার্থ বিবেচনায় আবার সেসব পণ্য আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। দেশের বাজার ব্যবস্থার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার পলিসি গ্রহণ করে। তিনি জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষত সয়াবিন তেল ও চিনির মূল্য (যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঠিক করে দেয়) স্থিতিশীল ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে অধিদপ্তর কর্তৃক রিফাইনারি থেকে পরিবেশক পর্যায় পর্যন্ত তেল ও চিনির মজুদ পরিস্থিতি জানার লক্ষ্যে একটি অ্যাপস তৈরির কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মাধ্যমে এসব পণ্যের অবৈধ মজুত শনাক্ত করা সহজ হবে এবং এর সাথে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অধিদপ্তর কর্তৃক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, মিডিয়া আমাদের সমাজের দর্পণ এবং মিডিয়ার কল্যাণে আমাদের কার্যক্রম অনেক সহজে এবং দ্রুত সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে। এ জন্য তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে একটি ভোক্তাবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রুপান্তর করার জন্য সবার সমন্বিত সহযোগিতা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিএসটিআই, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ ১২/১৩টি সংস্থা বাজার মনিটরিং করে থাকে। তবে শুধু অভিযান পরিচালনা করে বা জেল জরিমানার মাধ্যমে বাজারের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলারের সংকটে পণ্য আমদানি নিয়ন্ত্রণসহ নানা কারণে সব সময় বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয় না। চাহিদা ও যোগানের তারতম্যের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

অন্যদিকে অসাধু কারবারি, মজুতদার, কালোবাজারি, সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা, অনিয়ন্ত্রিত পরিবহন ভাড়া দ্রব্য মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। আমরা কোনোভাবে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নয়। তারা বড় বড় পুঁজি নিয়ে বাজারে আসে। লাভ যেমন থাকে ঝুঁকিও তেমনি থাকে। তাই ভ্যাট-ট্যাক্স ব্যবস্থাপনা সহনীয় রেখে সরকারকে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক শাকিলা জেসমিন, সাংবাদিক আরিফুর রহমান, সাংবাদিক সুশান্ত সিনহা ও সাংবাদিক মো. শারফুল আলম। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রধানত দায়ী-শীর্ষক ছায়া সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বিষয়ের বিপক্ষের দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, সরকারি দল হিসেবে বিষয়ের পক্ষের দল বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে আজকের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলকে ট্রফি ও সনদপত্র দেওয়া হয়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।