ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী ও পুনঃতফসিলের সুবিধা গ্রহণকারীদের প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ না দেয়ার আহ্বান বিল্ডের


Published: 2020-04-26 15:59:42 BdST, Updated: 2021-08-06 06:44:45 BdST


বিজনেস ওয়াচ প্রতিবেদক:
ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী ও পুনঃতফসিলের সুবিধা গ্রহণ করছে যেসব প্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেসকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় থিংকট্যাংক বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)। ২৫ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ আহ্বান জানায় বিল্ড। এছাড়া কভিড-১৯-এর প্রভাব মোকাবেলায় ও অর্থনীতি পুনরূদ্ধারে দ্রুত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে বেসকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় থিংকট্যাংক বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড)। তারা বলেছে দেশের শিল্প, আর্থিক ও কৃষি খাত এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য মূলত এসব প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। তাই অর্থনীতি পুনরূদ্ধাারের স্বার্থে প্রণোদনা প্যাকেজ অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বিল্ড। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও বেসরকারি খাতকে সুরক্ষায় এখন পর্যন্ত প্রায় এক ট্রিলিয়ন টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যার ২৩ শতাংশ সরকারি ইনসেটিভ হিসেবে প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত এসব প্যাকেজের আওতায় রয়েছে ঋণ, ইনসেনটিভ ও ভর্তুকি; যেগুলোর বেশিরভাগই ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। এ প্রণোদনা প্যাকেজকে ফলপ্রসু করতে বেশকিছু সুপারিশ এনেছে বিল্ড। শুধু ব্যাংক-ক্লায়েন্ট সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণ প্রদান না করে চাহিদা-ভিত্তিক একটি ফর্মুলা তৈরি করতে বলা হয়েছে বিল্ডের সুপারিশপত্রে। সিএমএসএমই খাতে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল সরবরাহের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। বিল্ডের সুপারিশপত্রে বলা হয়, ব্যাংক তাদের তহবিলের গ্যারান্টি চায়, সেক্ষেত্রে একটি ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম করা যেতে পারে যাতে ঋণ বিতরণ সহজ হয় এবং প্রকৃত এসএমইরা লাভবান হয়। সরকার কর্তৃক এসএমইদের জন্য আর্থিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্রেডিট গ্যারান্টি বা ঝুঁকি ভাগ নেয়ার কর্মসূচী গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। সুপারিশে বলা হয়, কুটির ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পিকেএসএফ, বিএসসিআইসি ও এসএমই ফাউন্ডেশনকে নিয়োগ দেয়া যেতে পারে এবং তফসিলি ব্যাংকগুলো ছোট ও ক্ষুদ্র শিল্পের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও সুপারিশপত্রে সিএমএসএমইদের জন্য আরো বেশকিছু সুপারিশ আনা হয়।
সুপারিশপত্রে বলা হয়, কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা প্রদান করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারকে অবশ্যই এই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে। কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সরকার কিছু কৌশল গ্রহণ করতে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি তাদের জন্য করসুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এছাড়া আগামী এক বছর যেসব প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকবে তাদের জন্য অতিরিক্ত ২ শতাংশ করছাড়ের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সুপারিশপত্রে বলা হয়েছে, রফতানি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কর পরিশোধের সয়মসীমা যেন বাড়ানো হয় এবং বিলম্বিত কর পরিশোধের ক্ষেত্রে বাড়তি সুদ বা জরিমানা যেন ধার্য করা না হয়।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।