শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯

পোশাকের অপ্রচলিত বাজারে প্রবৃদ্ধি বেশি


Published: 2023-01-15 12:40:36 BdST, Updated: 2023-02-04 11:38:21 BdST


নিজস্ব প্রতিবেদক : গেল ডিসেম্বর পর্যন্ত চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি সন্তোষজনক। ডিসেম্বরে রপ্তানি হয় ৪৬৭ কোটি ডলারের পোশাক। একক মাস হিসেবে যা এযাবৎকালের সর্বোচ্চ। সব মিলিয়ে গত ছয় মাসে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি। দেশে জ্বালানি সংকট এবং বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে আসার প্রতিকূলতার মধ্যেও বড় অঙ্কের রপ্তানি আয়ের পেছনে অপ্রচলিত বাজারের অবদান আগের চেয়ে বেশি। নতুন বা অপ্রচলিত বাজারে পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে প্রচলিত বাজারের চেয়ে অনেক বেশি হারে। গত ছয় মাসে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে আগের একই সময়ের চেয়ে ৩২ শতাংশের বেশি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৭ শতাংশের কিছু কম। রপ্তানি বেড়ে যাওয়ার কারণে পোশাকের মোট রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অংশও বেড়েছে। বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা এখন প্রায় ১৮ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল ১৫ শতাংশের কিছু বেশি। মোট ৪০৪ কোটি ডলারের পোশাক গেছে অপ্রচলিত বাজার হিসেবে পরিচিত দেশগুলোতে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩০৬ কোটি ডলার।

তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে চান তাঁরা। মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা অঞ্চলের দেশগুলোকে নিশানা করে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে। এসব বাজারে কোন ধরনের পোশাকের চাহিদা বেশি, কোন মৌসুমে কোন পোশাকের কদর বেশি- এসব নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। নতুন এই দুই ব্লকের ব্যবসায়ী ও কূটনীতিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। গত মেইড বাংলাদেশ উইক আয়োজনে শুধু ইরাক থেকেই ৫০ জন ক্রেতা প্রতিনিধি এসেছিলেন। এসব উদ্যোগের ফলে আগামীতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা আরও বাড়বে। অপ্রচলিত বাজারের অংশ বেড়ে যাওয়ার কারণে কমেছে প্রচলিত বাজারের হিস্যা। আলোচ্য ছয় মাসে পোশাক রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ এখন ১৯ শতাংশেরও কম। আগের একই সময়ে যা ছিল ২১ শতাংশেরও বেশি। অবশ্য ইইউর অংশ ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ, যুক্তরাজ্য ও কানাডাকে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রচলিত বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর বাইরের অন্যান্য দেশকে অপ্রচলিত বাজার হিসেবে ধরা হয়। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ১৫টি দেশ উল্লেখযোগ্য। চীন, জাপান, ভারত, রাশিয়া, তুরস্ক, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ রয়েছে এ তালিকায়। পণ্যের সঙ্গে বাজার বৈচিত্র্য আনতে নতুন বাজারে রপ্তানিতে ৪ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

বিজিএমইএ সভাপতি আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জের এবং জ্বালানির দামে অস্থিরতায় ইউরোপ, আমেরিকায় মূল্যস্ম্ফীতি রেকর্ড হারে বেড়েছে। এ কারণে ওই দুই বাজারে পোশাকের চাহিদা কম। এশিয়ার দেশগুলোর পরিস্থিতি সে তুলনায় অনেক ভালো। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা জাপান। গত ছয় মাসে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ৭৫ কোটি ডলারের পোশাক। দ্বিতীয় বড় বাজার ভারতে রপ্তানি বেড়েছে ৫০ শতাংশ। ৫৫ কোটি ডলারের পোশাক গেছে ভারতে। তৃতীয় প্রধান বাজার অস্ট্রেলিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৩০ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ৫২ কোটি ডলারের পোশাক।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।