বীমাখাতের ইমেজ সংকট কাটাতে কাজ করছে বিআইএ : শেখ কবির হোসেন


Published: 2019-10-31 04:52:58 BdST, Updated: 2021-08-06 07:08:08 BdST

 

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ)  প্রেসিডেন্ট এবং  সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মেম্বার অব গভর্নরস ও বাংলাদেশ প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য। বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনালের সাবেক আন্তর্জাতিক পরিচালক হিসাবে দেশে-বিদেশে লায়ন আন্দোলনের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি দেশি ও আন্তর্জাতিক নানা সংস্থার সঙ্গে জড়িত। সম্প্রতি বাংলাদেশের বীমা খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিজনেস ওয়াচ‘র সঙ্গে কথা বলেছেন বিআইএ প্রেসিডেন্ট। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন টুটুল রহমান। তাদের কথোপকথনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে তুলে ধরা হলো-

বিজনেস ওয়াচ : বীমাখাতের বর্তমান অবস্থা কি?

শেখ কবির হোসেন : ইন্স্যুরেন্স গ্যারান্টি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বলা হয় ইন্স্যুরেন্স খাত শক্তিশালী হলে সে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। আমার মনে হয় বাংলাদেশেও সেটা হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বীমা খাতের বর্তমান অবস্থা কি তা বাজার দেখলেই আপনার  বুঝতে পারবেন। আমরা এখাতের উন্নয়নের নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে আমরা খুব আশাবাদী বীমা খাতের ভবিষ্যত খুব ভালো। বিশ্বের অন্যান্য দেশে বীমা খাতের প্রবৃদ্ধির হার পয়েন্ট জিরোর নিচে। সেখানে আমার মনে হয় আমাদের ইন্স্যুরেন্সের প্রবৃদ্ধি ৩ শতাংশ অর্জিত হবে। কারণ ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে বর্তমানে ১৫ শতাংশ কমিশনের যে উদ্যোগ নিয়েছি তা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোর চেয়াম্যান  ও ম্যানেজমেন্টর কমিটির সদস্যরা যৌথভাবে বসে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্তটা নিয়েছি।  এছাড়া আমরা আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে কোম্পানী যাদের সাথে ব্যবসা করছিল তারা তাদের সাথে ব্যবসা করবে। এতে কোন সমস্য হলে অভিযোগ করা যাবে। এই নিয়ে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। এসব বিষয়ে কমিটির কাছে অভিযোগ আসলে দ্রুত তা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করবে।

বিজনেস ওয়াচ : বীমা খাতে উন্নয়ন কর্মী কত মানুষ কাজ করছে এর কোনো পরিসংখ্যন আছে কি? তাদের নিয়মিত বেতন কাঠামোর আওতায় আনবেন কি না।

শেখ কবির হোসেন : ডেভলমেন্ট খাতে কত লোক কাজ করছে এ ধরনের পরিসংখ্যন আমাদের এসোসিয়েশনে নাই। তবে আমরা নিতে পারবো।  আমরা আস্তে আস্তে এই ডাটা তৈরি করবো। প্রত্যেকটা কোম্পানীর আন্ডার রাইটার থাকে। তাদের সেকেন্ড ম্যান থাকে। তারা চাইলে এটা তৈরি করতে পারে। এই মুহুর্তে তাদেরকে নিয়মিত বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কোনো উদ্যোগ নাই। বীমার ডেভলমেন্ট কর্মকর্তারা তো ১৫ শতাংশ কমিশন পাবেন। সারা বিশ্বের এটাই নিয়ম। আগে কেউ কেউ হয়তো ৭০ শতাংশ কমিশন নিতো। সেটা তো উপরি। উপরি তো বৈধ না। আর উপরি বন্ধ হলেই তো ভালো। সবাই এপ্রিসিয়েট করবে। তিনি আরো বলেন, আজ তো দেখছেন ক্যাসিনো বন্ধ করায় মানুষ খুশীই হচ্ছে। মানুষ চাচ্ছে যে, যারা এর নেপথ্যে আরো উপরে আছেন তাদেরকেও ধরা  হোক। রিং মাস্টারকে ধরা হতো।

বিজনেস ওয়াচ : বাংলাদেশের বীমাখাতের ইমেজ সংকট রয়েছে। এটা কাটাতে সংগঠনের উদ্যোগ কি?

শেখ কবির হোসেন : আমরা যে উদ্যোগগুলো নিয়েছি এগুলো সফল হলে ইমেজ সংকট কেটে যাবে। ‘ক্লেইম’ না দেয়া কিংবা বীমা ম্যাচিউট  হওয়ার পরেও ‘ক্লেইম’ না দিয়ে গ্রাহককে ঘুরানো ইত্যাদি কারণে বীমা খাতে  ইমেজ সংকটটা তৈরি হয়েছে। যখন এই ১৫ শতাংশের বেশী কমিশন না দেয়ার বিষয়টা বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। তখন কম্পোনিগুলো রি-ইন্স্যুরেন্সসহ অন্যান্য সব বিষয়গুলো প্রতিপালন করবে। কোম্পানীগুলো ‘ক্লেইম’ হলে ডেকে এনে বীমার টাকা পরিশোধ করবে। তখন কিন্তু আমাদের ইমেজ সংকট থাকবে না। বর্তমানে শফিকুর রহমান পাটোয়ারির নেতৃত্বে ইন্স্যুরেন্স ডেভলমেন্ট অথরিটির (আইডিআরএ) যে কমিশনটা, তারা খুবই যতœবান এবং সচেষ্ট। তারা চেষ্টা করছেন বিমাখাতের ইমেজ সংকটটা কাটানোর। তারা বিভিন্ন কোম্পানীতে গিয়ে  তাদের ক্লেইমগুলো দিচ্ছে। এগুলো কিস্তু পত্র-পত্রিকায় আসছে, টিভিতে আসছে। এতে ইমেজ সংকট কেটে যাচ্ছে।

বিজনেস ওয়াচ : বীমা খাতের কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌছাতে কত সময় লাগবে?

শেখ কবির হোসেন : আমর তো মনে হয় ডিসেম্বরের মধ্যেই আমরা অনেক দুর এগিয়ে যাবো।

বিজনেস ওয়াচ : বিশ্বে বীমাখাতকে মর্যাদায় দেখা হয়, বাংলাদেশ সেটা হয় না কেন?

শেখ কবির হোসেন : আমরা যারা ইন্স্যুরেন্স সেক্টরে আছি তারা মানুষকে আর্কষন করতে পারি না। এটা একটা কারণ। আরেকটা কারণ হলো, মানুষের অনীহা। আসলে এখানে সরকারের কতগুলো নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। যেমন সরকারের ডেভলপমেন্টের সব কিছুই ইন্সুরেন্সের আওতায় আনতে হবে এমন নির্দেশনা প্রয়োজন। আজকে বাংলাদেশের ঢাকা শহরে বড় বড় কতগুলো অগ্নিকান্ড হলো। তাজরিন গার্মেন্টসের অগ্নিকান্ড, রানা প্লাজা ধ্বসে, এফআর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কত মানুষের প্রাণহানী হলো। কত মানুষ এখনো ভুগছে। যদি ইন্স্যুরেন্স করা থাকতো? তাহলে এ ভোগান্তি কিছুটা কম হতো। আমরা সব সময়ই বলি ছোট-বড় যতো স্থাপনা আছে তাদের ইন্স্যুরেন্স থাকতে হবে। এতে প্রাণহানী কমবে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমান কমবে। এখন এসব দূর্ঘটনায় সরকারের কোষাগার থেকে সাহায্য করতে হয়। কিন্তু ইন্স্যুরেন্স করা থাকলে তা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানীগুলোই করতো। আমরা সব সময়ই সরকারকে বলে আসছি কিন্তু তা হচ্ছে না। আইনি কাঠামো না থাকলে এটা করা সম্ভবও নয়। এ জন্য দুটো বিষয় দরকার একটা হচ্ছে মানুষের মাঝে উৎসাহ ও সচেতনতা সৃষ্টি করা। আরেকটা হলো সরকারের কিছু নির্দেশনা থাকতে হবে। কারণ সরকারের নির্দেশনা ছাড়া মানুষ কিছু করতে চায় না। আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে অনুরোধ করেছি। কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রীর সাথে  আমাদের বৈঠক হয়েছে সেখানে ও একথা  হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এসব বিষয়ে একটা নির্দেশও দিয়েছেন। আগে তিনি বলেছিলেন শুধু অট্টালিকার ইন্স্যুরেন্স করতে হবে। এখন বলছেন, সকল স্থাপনাকে ইন্সুরেন্সের আওতায় আনতে হবে।

বিজনেস ওয়াচ : ২৭ কোম্পানীর শেয়ারবাজারে আসার প্রস্তুতি কি? 

শেখ কবির হোসেন : আমার মনে হয় এ কোম্পানীগুলো শেয়ার বাজারে আসার ব্যাপারে ইতোমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আশা করছি অন্তত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আবেদন করবে। আর আবেদন করলেই বিএসইসি শেয়ার বাজারে আসার দেবে অনুমোদন দিয়ে দেবে বিষয়টি তা নয়। তাদের কতগুলো আইনকানুন আছে সেগুলো মানতে হবে। এই শর্তগুলো যারা পূরন করতে পারবে, তারায় কেবল শেয়ার বাজারে আসবে। যেসব কোম্পানির শক্তি নাই তারা হয়তো আসতে চাইবে না। তবে আমরা চাই প্রত্যেকটা কোম্পানী শেয়ারবাজারে  আসার জন্য এগিয়ে যাক।

বিজনেস ওয়াচ : শোনা যাচ্ছে ৭৫ কোটি টাকার যে মূলধন বেঁধে দেয়া হয়েছে এটার কারণে অনেকেই আসতে পারবে না এটা কতটুকু সত্য ?

শেখ কবির হোসেন : হ্যাঁ সেটা থাকতে পারে। অনেকেই এতদিন কোম্পানির  মূলধন বাড়ায় নাই। শেয়ারবাজারে না এসে তারা প্রতিদিন জরিমানা গুনেছে। অথচ তারা শেয়ারবাজারে আসার জন্য মূলধন বাড়াচ্ছে না। আমার মনে হয় তারা এতোদিন উদ্যোগটা নেয় নাই। তবে এ ব্যাপারে এখন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভালো । আশা করছি তারা আসবে।

বিজনেস ওয়াচ : নতুন নতুন প্রোডাক্ট তৈরিতে গবেষণা বা উদ্যোগ আছে কি?

শেখ কবির হোসেন : গবেষণা নাই। তবে প্রত্যেকটা কোম্পানীকে নতুন প্রোডাক্ট তৈরির ব্যাপারে বলা আছে। আমরা আইডিআরএ কেউ বলেছি উন্নয়নের জন্য নতুন নতুন প্রোডাক্ট আপনারাও আনেন। যেমন একটা নতুন প্রোডাক্ট এই যে, সব স্থাপনার ইন্স্যুরেন্স করা। আরো নতুন নতুন প্রোডাক্ট আনার জন্য বলা হচ্ছে।

বিজনেস ওয়াচ : দেশে কোনো অর্থনৈতিক সংকট লক্ষ্য করেন কি?

শেখ কবির হোসেন : আমার তো মনে হয় না কোনো সংকট আছে। আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। সারাবিশ্বে আমাদেরকে বলা হচ্ছে ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ সেক্ষেত্রে আমাদের সংকটটা থাকবে কেন? হয়তো ম্যানেজমেন্টের কোনো কোনো জায়গায় অসুবিধা আছে যার জন্য এই সংকটটা ওই সমস্ত জায়গায় দেখা দিচ্ছে। আমি মনে করি অর্থনীতিতে কোনো সংকট নাই।

বিজনেস ওয়াচ :আপনাকে ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য

শেখ কবির হোসেন :  আপনারদেরর ধন্যবাদ।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।