শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

এলএনজি ও ডিজেলের করহার কমিয়ে  জ্বালানীর বাড়তি দাম সমন্বয় করার পরামর্শ এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিনের


Published: 2022-11-06 01:12:48 BdST, Updated: 2024-06-14 21:06:56 BdST

নিজস্ব প্রতিবেদক:বর্তমান জ্বালানী সংকট উত্তরনে  এলএনজি ও ডিজেলে করহার কমিয়ে  সরকারকে জ্বালানীর বাড়তি দাম সমন্বয় করার পরামর্শ দিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। বর্তমানে এলএনজিতে ৪৭ শতাংশ কর এবং ডিজেলে প্রতি লিটারে কর ২৪ টাকা আরোপ করা আছে। এই কর হার কমিয়ে বাড়তি দাম সমন্বয় করে নতুন করে যৌক্তিক দাম ঠিক করা যেতে পারে। এছাড়াও অবৈধ গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করে দিলে শিল্পখাতের জ্বালানী সঙ্কটের অনেকটা সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। শনিবার  ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইআরএফ ডায়লগ’ এ অংশ নিয়ে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন। রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) কার্যালয়ে এ ডায়লগ অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সঙ্কট মোকাবেলায় মাইক্রো ম্যানেজমেন্টের উপর গুরুত্ব আরোপ করে জসিম উদ্দিন বলেন,  দুর্ভিক্ষ হলে সারা বিশ্বে হবে। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের মিতব্যায়ী হতে হবে। এ জন্য কৃষি উৎপাদন বাড়াতে পারি, পাশাপাশি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। ব্যয় কমাতে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারলে আমরা ভালো করব। জ্বালানী সংঙ্কট মোকাবেলায় ব্যবসায়িদের পক্ষ থেকে রেশনিং করার পরামর্শ দিয়েছিলাম কিন্ত তা না করে লোডশেডিং করা হয়েছে। এতে সমস্যা আরো বেড়েছে। আর্থিক খাতে এসএমইর উপর গুরুত্বারোপ করে এ ব্যবসায়ি নেতা আরো বলেন, এসএমইর সংজ্ঞা যাই থাকুকনা কেন ব্যাংকগুলোকে এখাতে আরো কাজ করতে হবে। অর্থায়ন ও মার্কেটিংয়ের সুযোগ এখাতের প্রধান সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সেক্টটরাল বাণিজ্য সংগঠন ও  জেলা চেম্বারগুলো গুরুপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ এসএমই খাতের উদ্যোক্তারা এনজিওদের  কাছ থেকে অনেক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সফল হচ্ছে। এখানে খেলাপী ঋণের পরিমানও কম। এনজিওরা পারলে ব্যাংক পারবে না কেন এমন প্রশ্ন রেথে তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ঋণের বিদ্যমান সুদহার বাড়ালে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করে জসিম উদ্দিন বলেন, যখন সুদহার কমানো হয়েছে, তখন দেশে বিনিয়োগ বেড়েছে। ঋণের সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে গবেষণা সংস্থাগুলোর এজেন্ডা থাকে। তারা একেক জনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চায়। বাস্তব হচ্ছে-এর ফলে শিল্প টিকে থাকবে কি না? বর্তমান অবস্থায় সুদহার বাড়ালে শিল্প কোথায় যাবে। তিনি বলেন, বাড়তি ব্যয় কমিয়ে ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়ানো দরকার। ব্যয়বহুল শাখাসহ ব্যাংকের অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যয় কমাতে হবে। এ প্রসঙ্গে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডলার শক্তিশালী করতে সুদহার বাড়িয়েছে। তাদের ফর্মুলা আমাদের দেশে বাস্তবায়ন করলে হবে না। দেশের শিল্পের কথা বিবেচনা করেই নীতি গ্রহণ করতে হবে। জ্বালানি সংকটের ব্যাপারে তিনি বলেন, কয়লা ভিত্তিক জ্বালানিতে যেতে হবে। আমাদের নিজস্ব কয়লা ব্যবহার করতে হবে। দেশের উন্নয়নে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সহযোগিতা লাগবে। বিদ্যমান বিনিয়োগের সঙ্গে আরও নতুন বিনিয়োগ আসলে তাদের ধরে রাখতে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়াতে হবে। জ্বালানি নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ এখন বড় ইস্যু। কোভিডের সময় সিদ্ধান্ত ছিল শিল্প বন্ধ করা যাবে না। সেটা সাহসী সিদ্ধান্ত। চলমান সংকটেও তেমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। কারণ গত বছর ৫২ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। তখন ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বলা হলেও বাস্তবে ছিল না। জসিম উদ্দিন বলেন, সরকার গ্যাসে ভর্তুকি যা দিচ্ছে এর চেয়ে বেশি ট্যাক্স নিচ্ছে।

অর্থপাচার বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, আমদানির আড়ালে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মূল্য দেখানোর প্রমাণ পেয়েছে তারা। আন্ডার ইন ভয়েস ও ওভার ইন ভয়েসের মাধ্যমে অর্থ পাচার হচ্ছে। তাদের উচিত জড়িতদের আইনের আওতায় আনা। তা না হলে শুধু বাহবা নেওয়ার জন্য মুখরোচক কথা বলা উচিত নয়। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংলাপে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সহসভাপতি এম শফিকুল আলম।

 

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।