পাটের বহুমুখী পণ্য নিয়ে মেলায় হাজির উদ্যোক্তারা
Published: 2017-03-12 02:42:01 BdST, Updated: 2025-04-04 05:20:40 BdST
বিওয়াচ ডেক্স: পাট দিয়ে কী না হয়। সোফা, টি টেবিল, জ্যাকেট, শাড়ি, পাঞ্জাবি, বেডশিট, জানালা-দরজার পর্দা এমনকি দাবা খেলার গুটি ও কোর্ট।
নিজ চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না, পাট দিয়ে এতো সুন্দর করে ঘর সাজানো যায়। বহুমুখী পাটপণ্য মেলায় গেলে চোখে পড়বে এ দৃশ্য।
রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বসেছে তিন দিনব্যাপী বহুমুখী পাটজাত পণ্যের মেলা। বৃহস্পতিবার মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলবে আরও দুদিন।
মেলায় প্রবেশ করলেই দেখা যাবে রকমারি পাটপণ্য দিয়ে মনোরমভাবে সাজানো একটি ঘর। সেখানে রয়েছে পাটের সোফা। নান্দনিক এ ঘরের মধ্যে পাটের ওই সোফার সামনে টি-টেবিলে সাজানো পাটের তৈরি নানা রকম খেলনা। রয়েছে পাটে ঘেরা ঝাড়বাতি। ঘর আলোকিত করেছে পাটের ল্যাম্পশেডও। পাশেই পাটের তৈরি ডাইনিং টেবিল। টেবিলের পাশে ঝুলছে পাটের জ্যাকেটও। এমনকি জানালা-দরজার সুন্দর পর্দাও রয়েছে।
ডান পাশে গেলে দেখা যাবে পাটের শাড়ি পরিহিত ডল। এখানে রয়েছে সুন্দর খাটিয়া, উপরে বিছানো পাটের বেড সিট, ল্যাম্পের আলো, পাটের গাউন, জ্যাকেট, কুটি।
এর বাম পাশ রয়েছে, দাবার কোর্ট। পাটের তৈরি দাবার গুটি। যা পাশের চেয়ারে বসে খেলা যাবে।
জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) এসব স্টল সাজিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেপিডিসির ডাইরেক্টর মইনুল হক বলেন, তেজগাঁওয়ে আমাদের নিজস্ব সেলস সেন্টারে এগুলো পাওয়া যাবে। যে কেউ ইচ্ছা করলে কিনেও নিতে পারবেন সুলভ মুল্যে।
মেলার প্রধান ফটক পার হয়ে সোনালি আঁশ লিমিটেডের স্টলেও পাটের সোফা, বেডশিট, কুশন, মেঝতে শতরঞ্জি, জানালার পর্দা ও জ্যাকেট শোভা পাচ্ছে। একটি পুরো ঘর পাটের পণ্যে কতোটা মনোরম দেখাতে পারে সেটাই বোঝানো হয়েছে।
তবে এসবের দাম আকাশছোঁয়া। যে কারণে ইউরোপ ও আমেরিকায় এসব পণ্যের কাপড় প্রতি মিটার ৬ থেকে ৭ ডলার দামে বিক্রি করা হয়।
স্টলের দায়িত্বে খাকা ইকবাল বলেন, জ্যাকেট, সোফা ও বেডশিটসহ অন্যান্য পণ্য আমরা দেশের বাইরে বিক্রি করে থাকি। সাধারণত ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে বিক্রি করা হয়।
মেলা ঘুরে আরও জানা গেছে, হাজারো নারীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে পাট। তাদের মধ্যে অন্যতম গোল্ডেন রুপ এবং ইয়ং উইমেনস খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন। ২০১৪ সালে নিজেই গোল্ডেন রুপ নামে প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন মোবাশ্বেরা রহমতুল্লা। এখন প্রায় শতাধিক নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে এখানে।
হাবিব রহমান বলেন, আমার লাভ কতো টাকা হলো এটা দেখার বিষয় নয়। শতাধিক থেকে হাজারও নারীকে কর্মসংস্থান দেওয়া আমার প্রধান লক্ষ্য।
মেলায় রকমারি জুতা, বেডশিট, কভার, কুশন, শাড়ি, জিন্স প্যান্ট, শার্ট বিক্রি হচ্ছে। শোভা পাচ্ছে পাটের ওয়াল হেংগিং। পাট দিয়ে কতো বাহারি পণ্য তৈরি হয়, তা দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরাও।
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।