বিমানের কাছে ১৫ শত কোটি টাকা পাবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন


Published: 2017-03-15 03:57:02 BdST, Updated: 2021-08-06 05:16:58 BdST

বিওয়াচ ডেক্স: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স গত দুই বছর ধরে লাভের দাবি করলেও বিভিন্ন সংস্থার কাছে দেনা শত শত কোটি টাকায় পরিনত হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)একাই জেট ফুয়েল বাবদ বিমানের কাছে পাবে সাড়ে ১৫ শত কোটি টাকা।
২০১১ সাল থেকে বিমান বিপিসিকে কোনো টাকা পরিশোধ না করায় আস্তে আস্তে তা বেড়ে সাড়ে ১৫ শত কোটি টাকা হয়েছে।
২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিমানের বিপিসির কাছে দেনার পরিমান ১৫.৩৯ শত কোটি টাকা থাকলেও চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তা বেড়ে ১৫.৫০ শত কোটি টাকা হয়েছে।
সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২৮ তম সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে একটি প্রতিবেদনে জানানো হয় যে বিমানের কাছে বিপিসির পাওনা গত বছর অক্টোবর পর্যন্ত ১৫.৩৯ কোটি টাকা হয়েছে।
চিঠির মাধ্যমে বিপিসি বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলো যে ক্রমাগত বিমানের কাছে তাদের পাওনার পরিমান বেড়েই চলেছে। এবং তারা যেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে তাদের বকেয়া পরিশোধ করার জন্য বলে এবং বিমান বিপিসির কাছ থেকে নগদে জেট ফুয়েল ক্রয় করার কথা বলে।
গত বছর ২৫ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ,জ্বালানী ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় একটি চিঠিতে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে বিপিসি এর অধিনস্ত পদ্মা অয়েল কোম্পানি( যারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্স গুলোকে জেট ফুয়েল সরবরাহ কে থাকে) কে তাদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করার জন্য বলে এবং ২০১৭ এর জানুয়ারি থেকে নগদে জেট ফুয়েল ক্রয় করার জন্য বলে।

বিপিসির একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান যে এখনো বিমানের দেনা পরিশোধের কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ তারা দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি আরো জানান যে বিমান কখনো তাদের এক কোটি আবার কখনো দুই কোটি টাকা করে পরিশোধ করছে যেটা তাদের পাওনা পরিশোধের জন্য যথেষ্ট না।

জাতীয় পতাকা বাহি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স দাবি করেছে যে, বেশ কয়েক বছর ধরে লোকসান সহন করার পর তারা পরপর দুই বছর লাভ করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলেছে যে, তারা ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ২৭৬ কোটি টাকা লাভ করেছে এবং যুক্তরাজ্য যদি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সরাসরি বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য গামী কার্গো ফ্লাইট নিষিদ্ধ না করতো, তাহলে তারা আরো বেশি লাভ করতে সক্ষম হতো।
২০১৪-১৫ অর্থ বছরে বিমান ৩২৪ কোটি টাকা লাভ করে এবং ২০০৯-১০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থ বছর পর্যন্ত ১৪৩৬ কোটি টাকা লোকসান করে বলে জানিয়েছে বিমান।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসাদ্দিক আহমেদ বলেন, যেহেতু ক্ষতি বিমানে নিয়মিত হতে থাকে এবং লাভ মাঝে মাঝে দেখা যায় তাই বলা যায় বিমানে দায় এবং লাভজনকতার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরো বলেন কোম্পানি গঠনের পর থেকেই বিমান লোকসান করছে এবং গত দুই বছর ধরে লাভ করায় ক্ষতির পরিমান তারা ১১০ কোটি টাকা পর্যন্ত কমাতে সক্ষম হয়েছে।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।