মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রস্তাবিত বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ: বিসিআই সভাপতি


Published: 2022-06-10 19:08:49 BdST, Updated: 2022-06-27 03:08:56 BdST

নিজস্ব প্রতিবেদক: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই প্রস্তাবিত বাজেটের মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রি (বিসিআই) । শুক্রবার (১০ জুন) এক বিবৃতির মাধ্যমে এ কথা জানান বিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চেীধুরী পারভেজ। তিনি জানান, প্রস্তাবিত বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা উল্লেখ করা হলেও তা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরী। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠির জন্য রেশনিং ব্যবস্থা জোরদার করা এবং বাজেটে ৫০ লক্ষ পরিবারকে ১৫ টাকা দরে চাল সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। আমরা এই চালের দর পূর্বের ন্যায় ১০ টাকায় নির্ধারনের প্রস্তাব করছি। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘কভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান করোনা ও ইউক্রেন সংকটের বিভিন্ন ধরনের সীমাবদ্ধতা ও শত প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কল্যাণমূখী বাজেট দিয়েছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি। বিশ্ব অর্থনীতি করোনা ও ইউক্রেন সংকটে বিপর্যস্ত, ঠিক এই কঠিন সময়ে আজকের জীবন-জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৫.৬ শতাংশ নির্ধারণ করে আগামী ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এই সময়ে এরূপ উচ্চ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ঘোষিত বাজেট আশাব্যঞ্জক হলেও সুশাসন, যথাযথ মনিটরিং, দক্ষতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যথাযথ পরিকল্পনা নিশ্চিত করা না গেলে বাস্তবায়নে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে সরকারকে।
বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন বর্তমান সংকটময় বিশ^ অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত বাজেটে তৈরি পোশাক শিল্পের ন্যায় সব ধরনের রপ্তানিমুখী কোম্পানির করহারও ১২ শতাংশ করা হয়েছে যা বিসিআই এর দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। এজন্য আমরা মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তবে রপ্তানি ক্ষেত্রে উৎসে কর দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ১ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে যা বর্তমান বিশ^ পরিস্থিতিতে রপ্তানির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে আমরা উৎসে কর দশমিক ৫০ শতাংশ পূনর্বহাল করার প্রস্তাব করছি। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে প্রনোদনা প্রদানকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রয়োজনে ডলারের মূল্য পূননির্ধারন করে প্রবাসী আয়কে আরো উৎসাহিত করা জরুরী।
প্রস্তাবিত বাজেটে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য নজর দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষতা উন্নয়নের নীতিমালা সহজিকরণ করা দরকার। যাতে সরকারি- বেসরকারি উভয় খাতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।তিনি আরো বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা যা বিগত বছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ১২.১২ শতাংশ বেশি। বাজেট ঘাটতি ২ লক্ষ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ যা ৫ শতাংশ এর মধ্যে থাকা বাঞ্চনিয়। এ ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লক্ষ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা যার মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লক্ষ ৬ হাজার ৩৩৫ টাকা ঋণ গ্রহণের কথা বলেছে। সরকার ব্যাংক খাত থেকে এ পরিমাণ ঋণ গ্রহণ করলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।