শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

ইসলামী ব্যাংক ডক্টর ইউনুস সাহেবের গ্রামীণ ব্যাংককের চেয়েও অনেক প্রগতিশীল ব্যাংক


Published: 2023-10-01 18:20:51 BdST, Updated: 2024-06-14 21:17:14 BdST


মাহবুবুল হক হিরন: ১৯৭৮ সাল থেকে ইসলামী আন্দোলনের শত শত নেতা ও কর্মী দুনিয়াব্যাপী বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছিলেন মরহুম মোহাম্মদ আজিজুল হক। তিনি সোনালী ব্যাংকে ছিলেন। এখানে বসে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ছোট একটা ইউনিট করেছিলেন। সেখানে কাজটা ছিল মূলত গবেষণার । প্রথমে সোনালী ব্যাংকের কয়েকজন কর্মী,পরবর্তীতে শাহ আব্দুল হান্নান, পূবালী ব্যাংকের আব্দুর রশিদ চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক লস্কর সাহেব, ব্যারিস্টার তমিজুল হক, মানারাত ও বে ইস্টার্নের জাকি উদ্দিন আহমদ ও ফেনীর এমপি মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন, চাঁদপুরের এমপি প্রফেসর আব্দুল্লাহ, সিলেটের সাংবাদিক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, মতিঝিলের প্রধান পেট্রোল পাম্পের মালিক, নর্থ ব্রুক হল রোডের বড় ব্যবসায়ী, ইসলামী সমাজ কল্যাণ সমিতির মোহাম্মদ ইউনুস, মুসলিম বিজনেসমেন সোসাইটি, ইসলামী ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরো, বাংলাদেশ ইসলামী সেন্টারের প্রতিনিধি , ইবনে সিনা ট্রাস্ট এর প্রতিনিধি কমোডর আতাউর রহমান ও আবদুজ জাহের মোহাম্মদ আবদুন নাসের, আরো অনেক পরে মীর কাসেম আলী, অধ্যাপক ফজলে আজিম একপর্যায়ে বগুড়ার নাজির আহমদ, মসজিদ মিশনের একজন প্রখ্যাত আলেম, আরো পরে ইস্কান্দার আলী খান, মাঝে মোমিনুল ইসলাম পাটোয়ারীসহ আরো অনেকে। তিনটি প্রতিষ্ঠানের অনেক অবদান আছে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠায়। তাদের মধ্যে ইসলামিক ইকোনমিক রিসার্চ ব্যুরো, ইসলামী সমাজ কল্যাণ সমিতি এবং মুসলিম বিজনেসম্যান সোসাইটি। এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার সম্পর্ক ছিল । এসব প্রতিষ্ঠানে আমি নির্বাহী পরিষদের সদস্য ছিলাম ।
প্রথমদিকে ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের বাইরের কিছু সুধী । মাঝে এসে গেলেন ইসলামী আন্দোলনের কিছু নেতা ও স্বনামধন্য কর্মী। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ইসলামী আন্দোলনের পরোক্ষ নেতৃবৃন্দ। বাইরের সুধীবৃন্দ এখানে খুব বেশি একটা সম্মান ও মর্যাদা পাননি। মূলত ইসলামিক ব্যাংক পরিচালনা করেছেন ইসলামী আন্দোলনের স্বনামধন্য নেতা ও কর্মীগণ। মোটামুটি ভালই তো চলছিল। বড় ধরনের পরিবর্তনের আগে খুব বেশি অসুবিধা তো ছিল না। বড় ধরনের পরিবর্তনের পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই সবকিছু উল্টাপাল্টা হয়ে যায়। পূর্বে পরিচালকগণ বড় ধরনের কোন অন্যায় অবিচার করেছেন, তেমনটি বাইরে থেকে শোনা যায়নি। এটা ছিল ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের অনেক বড় একটা এচিভমেন্ট। নিঃসন্দেহে এই ব্যাংকটি ছিল ডক্টর ইউনুস সাহেবের গ্রামীণ ব্যাংক এর চেয়েও অনেক প্রগতিশীল ব্যাংক। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তরা এখান থেকে অনেক সুবিধা পেয়েছে। কারণ পরিচালকদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল একটা মধ্যবিত্ত সমাজ গড়ে তোলার। এই ব্যাংকের একটা বড় সুবিধা ছিল পরিচালকগণের অধিকাংশই ছিলেন কোনো না কোনো ইসলামী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি। এখানে পার্সোনাল এগরেন্ডাইজমেন্ট বেশি ছিল না। স্কোপও ছিল না। মোটামুটি একটা সিস্টেমের মধ্য দিয়েই চলছিল । নীতি নির্ধারকরা খুব বেশি নাক গলাতে পারতেন না। মোদ্দা কথা, ইসলামের একটা গৌরবময় অধ্যায়কে চুরমার করে দেওয়ার বড় দায়িত্ব নিয়েছিল ইহুদিদের দ্বারা প্ররোচিত আন্তর্জাতিক কোনো প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর ছোটখাটো বিষয় ছিল না । আমাদের মত নগণ্য লোক আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মুখে কিছুই করতে পারত না ।
পরিবর্তনের আগে যারা ছিলেন, তাদের তো বড় ধরনের কোন বদনাম ছিল না। বদনামটা অতি সন্তর্পনে তৈরি করা হয়েছে। ইহুদি চক্রান্তের বিষয়গুলি যারা ভালোভাবে অবগত আছেন, তাঁরাই শুধু এটা অনুধাবন করতে পারবেন। একটা যেনতেন প্রকারের ভোটাভুটি করলেই ইকামতে দীন প্রতিষ্ঠিত করার পথ সুগম হয়ে যাবে। এ ধরনের সহজ-সরল বিশ্বাস যারা করেন, তাদের জন্য দুঃখ করা ছাড়া আর তো ভাই কিছু করার নাই।
রিভিল্ড নলেজ ও একুয়ারিং নলেজকে একসাথে প্রচন্ডভাবে আয়ত্ত করার শপথ নিতে হবে। মহান আল্লাহই সব জানেন। আমার জানা সবটাই ভুল হতে পারে । সব ইনফরমেশন তো আমাদের কাছে নেই। মূল ইনফরমেশন এখন আর বাইরে আসে না । সব সময় মনে রাখতে হবে নলেজ এবং ইনফরমেশন এক বিষয় নয় । একমাত্র মহান আল্লাহ তাঁর কোরআনে নলেজ এবং ইনফরমেশনকে একীভূত করে মানব জাতির জন্য উদ্ভাসন করেছেন। [ লেখাটি মাহবুবুল হক হিরনের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেয়া]

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।