বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয় করে শিল্পখাতের চাহিদা মাফিক শিক্ষাকার্যক্রম চালু করা হবে: শিক্ষা উপমন্ত্রী


Published: 2020-07-04 18:07:30 BdST, Updated: 2021-06-24 21:13:56 BdST

বিজনেস ওয়াচ প্রতিবেদক:
দেশের বেসরকারীখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে সমন্বয় বাড়ানো মাধ্যমে শিল্পখাতের চাহিদা মাফিক শিক্ষাকার্যক্রম চালু এবং দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করা হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধীনে পরিচালিত কলেজ সমূহে প্রায় ২৮ লক্ষ শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু আমাদের শিল্পখাত তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারছে না। এক্ষেত্রে তিনি নতুন গ্রাজুয়েটদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি বিদেশ থেকে ফেরত আসা কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।
ঢাকা চেম্বার আয়োজিত ‘কোভিড ১৯ পরবর্তী বাংলাদেশের শিল্পখাতের প্রস্তুতি : বিনিয়োগ ও দক্ষতা’ বিষয়ক ওয়েবনারে এ বক্তব্য দেন তিনি। ৪ জুলাই শনিবার এ ওয়েবনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম বিশেষ অতিথি এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. ইঞ্জিঃ মোঃ শাখাওয়াত আলী সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে আমাদের শ্রমিকের দক্ষতার অভাব পূরণে ‘স্কিল ম্যাপিং’ নিয়ে কাজ করছে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরো বাড়াতে হবে। ইতোমধ্যে সরকারী পলিটেকনিক্যাল সমূহে ভর্তি হওয়ার জন্য বিদ্যমান বয়সের যে প্রতিবন্ধকতা ছিল তা তুলে দেওয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে নতুন গ্রাজুয়েট এবং বিদেশ ফেরত কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সারাবিশে^ই অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর তথ্য অনুযায়ী, বৈশি^ক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪.২ শতাংশ হ্রাস পাবে। বর্তমান অবস্থার কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ১১ মাসে গত অর্থবছরের তুলনায় মোট রপ্তানি ১৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়াও পুঁজির স্বল্পতা ও বাজার সংকোচনের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প, এসএমই খাত এবং ইনফরমাল খাতে বেকারত্বের সৃষ্টি হয়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি জানান, বাংলাদেশের মোট কর্মসংস্থানের ২০ শতাংশ আসে শিল্পখাত হতে, তবে পর্যাপ্ত শ্রমশক্তি থাকা সত্ত্বেও আমাদের দক্ষ শ্রমিকের যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই কোভিড-১৯ মহামারির সংকট উত্তরণ ও দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে শিক্ষা কারিকুলামের সংষ্কার ও শিল্প খাতে চাহিদামাফিক শিক্ষা ব্যবস্থার যুগোপযোগীকরণ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুবিধা কাজে লাগানো, বিদেশি বিনিয়োগ স্থানান্তরের সুবিধা কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টিতে প্রয়েজনীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচী চালুকরন, প্রবাস থেকে ফেরত আসা কর্মী এবং স্থানীয় শিল্পখাত থেকে কর্ম হারানো শ্রমিকদের শিল্পখাতে পুণরায় ফিরিয়ে আনার জন্য সহযোগিতা প্রদান এবং প্রণোদনা প্যাকেজ হতে এসএমই উদ্যোক্তাদের সহজে ঋণ প্রদান নিশ্চিত করা একান্ত আবশ্যক।
বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন,বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে সরকার দেশের বেসরকারীখাতের সাথে একযোগে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী, এছাড়াও তিনি দেশের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে বের হওয়া গ্রাজুয়েটদের শিল্পখাত ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত করার লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষতা উন্নয়নের উপর জোরারোপ করেন।
তিনি বলেন, আমাদের শিল্পখাত চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ মানব সম্পদ না থাকায় প্রতিনিয়ত আমাদেরকে বিদেশিদের নিয়োগদানের জন্য বিডা’র পক্ষ হতে অনুমতি দিতে হয় এবং এ অবস্থা উত্তরণে আমাদের শিক্ষা কারিকুল্যামকে শিল্পমুখী ও যুগোপযোগী করার কোন বিকল্প নেই।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর পরিচালক (প্রশিক্ষণ) ড. ইঞ্জিঃ মোঃ শাখাওয়াত আলীজানান,বিএমইটি ৭০টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সারাদেশে প্রশিক্ষণকার্যক্রম চালু রেখেছে। কোভিড-১৯ সংকটের কারণে দেশে ফেরত আসা দক্ষ প্রবাসীদের কাজের ধরণের ভিত্তিতে একটি ডাটাবেইজ করা হবে। দেশে ফেরত আসা প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ২০০ কোটি টাকার একটি পুণ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হবে। যেখান থেকে একজন সর্বচ্চো ৫ লক্ষ টাকা ঋণ সুবিধা পাবেন, এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫০০ কোটি টাকার প্যাকেজও এর সাথে যুক্ত হবে। অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন,বিজনেস ইন্টিলিজেন্স লিমিটেপের উদ্যোক্তা শাকিব কোরেশি। মূল বক্তব্যে তিনি বলেন,সম্প্রতি স্থানীয় শিল্প-কারখানার কাজের সুযোগ কমে যাওয়া ও বিদেশে হতে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আসার কারণে আমাদের কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থা উত্তরণে অনেকই আত্ন-কর্মসংস্থানের দিকে ঝুঁকবে, তবে এর জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষনে প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করার পাশাপাশি কোন খাতে বিনিয়োগ আসবে সেটাও আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। আমাদের শ্রমবাজার ধরে রাখতে হলে চাহিদামাফিক দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশে-বিদেশে যারা কাজ করছে তাদের একটি ডাটাবেইজ তৈরি করার উপর জোর আরোপ করেন। তিনি আরো বলেন, এখন সময় এসেছে ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আরো বেশি মাত্রায় জোর আরোপ করার।

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।