শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯

ধনিক বান্ধব মুদ্রানীতি ও বিবেকের ভূমিকায় গভর্নর


Published: 2023-01-22 11:58:17 BdST, Updated: 2023-02-04 11:26:30 BdST

বিরূপাক্ষ পাল: আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চাপে মুদ্রানীতি আবার ষাণ্মাসিক হওয়ায় অর্থমহলে এ নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কারণ ছোটবেলায় গ্রামের বাড়িতে যাত্রাপালায় ‘বিবেক’ নামের একটি চরিত্র থাকতে দেখেছি। তার কাজ ছিল গানের সুরে ন্যায়সংগত ভবিতব্য তুলে ধরে আশার বাণী শোনানো। কিন্তু সে চরিত্রটি সরাসরি কোনো অন্যায় দমনে হাত দিতে পারত না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের অবস্থাও অনেকটা সে রকম। এবারের মুদ্রানীতিকে গভর্নর ঋণহারের ৯ শতাংশের বন্দিদশা থেকে মুক্তি দিতে পারেননি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রচ্ছন্ন চাপের কাছে অবনত থেকে নামমাত্র পরিমাণে রেপো হার বাড়িয়েছেন পৌনে ৬ ভাগ থেকে ৬ ভাগ পর্যন্ত। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মুখে তাত্ত্বিকভাবে ‘মুদ্রা কষায়ন ভঙ্গি’ বা ‘টাইটেনিং’ দেখিয়ে বিবেকের কাছে কিছুটা হলেও পবিত্র থেকেছেন—যদিও এই কিঞ্চিৎ ভেষজ বটিকা দামের দাবানল নেভাতে কোনোই কার্যকর ভূমিকা রাখবে না। সব মিলিয়ে এটি ধনিক বান্ধব এক মুদ্রানীতি।

বার্ষিক থেকে ষাণ্মাসিক

গত গভর্নরের আমলে হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই মুদ্রানীতির ঘোষণা ষাণ্মাসিক থেকে বার্ষিক হয়ে যায়। ঠিক যেমন সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী হঠাৎই মূল্যস্ফীতির ঘোষণা মাসিক থেকে ত্রৈমাসিক বানিয়ে ফেলেছিলেন। বাজেট বার্ষিক বলেই কিনা সাবেক গভর্নর মুদ্রানীতিকেও বার্ষিক বানিয়ে ফেলেছিলেন, তা এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার বিষয়। কোথায় যেন একটা লুকোচুরির আনন্দ। এবার মূলত আইএমএফের চাপে মুদ্রানীতি আবার ষাণ্মাসিক হওয়ায় অর্থমহলে এ নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি হয়।

কেন ধনিক বান্ধব

অনমনীয় উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে অতিষ্ঠ জনজীবন আশা করেছিল যে নতুন মুদ্রানীতি একেবারে প্রথম কাজ হিসেবে ৯ ভাগ ঋণহারের জগদ্দল পাথর ভেঙে সুদহার বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি মূল্যস্ফীতি কমাতে সচেষ্ট হবে। বাজার বিবেচনায় প্রকৃত মূল্যস্ফীতি ১০ ভাগ বা তার চেয়েও বেশি। তাই ৯ ভাগ ঋণহারের প্রকৃত সুদহার শূন্যের নিচে অবস্থান করছে। অর্থাৎ এ হারে কেউ ঋণ পেলে তার প্রকৃত খরচ শূন্য বা তার চেয়েও কম। সে জন্য পানির দরে ব্যাংক থেকে তহবিল হাওলাত করতে বড়লোক ঋণগ্রহীতাদের বড়ই আনন্দ। সেই লক্ষ্যে ধনিক গোষ্ঠীর একটা চাপ ছিল, এই মওকার আনন্দ থেকে তাদের যেন বঞ্চিত করা না হয়। গভর্নর সে আবদার রেখেছেন অথবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে তা রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তাই ধনিক বণিকেরা এই মুদ্রানীতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ। মুদ্রানীতি ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগে ব্যবসায়ী নেতারা গভর্নরের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা ৯ ভাগের এই সস্তা ঋণহার যে বিনিয়োগ–সহায়ক, সে রকম কথা বুঝিয়ে গেছেন। কিন্তু মূল্যস্ফীতির যুগে বিনিয়োগবর্ধন যে দামের দাবদাহ আরও বাড়িয়ে দেয়, সে কথাও ব্যবসায়ীরা ভালো বোঝেন। বেশি বিনিয়োগ বেশি অর্থ ছড়ায়। তাই বিশ্বের সব সুস্থ দেশে সুদহার বাড়িয়ে বিনিয়োগের লাগাম টেনে ধরা হয়।

এটা বুঝতে অর্থনীতিক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। চোখ–কান খোলা রাখলেই ঠাহর করা যায়। কিন্তু তারপরও ব্যবসায়ীরা কেন ৯ ভাগের মওকা চাইলেন? কারণ, বাংলাদেশের নীতিপ্রণেতারা তাঁদের মনে কোনো কষ্ট দেবেন না, এটা তাঁরা ভালোই জানেন। মুদ্রানীতি সে দাবি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে। কোনো অর্থনীতিবিদ এই অসময়ের ধনিক প্রীতি ভালো চোখে দেখছেন না।

পরোক্ষভাবেও ধনিক বান্ধব

মুদ্রানীতিকে গভর্নর ‘সতর্কভাবে মানানসই’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। এর এই মানিয়ে চলা বা ‘অ্যাকোমোডেটিভ’ হওয়ার মূল রহস্য হচ্ছে সরকার যা চায়, তা–ই আগে মেটানো হবে। সরকারকে এক লাখ কোটি টাকার ওপর ঋণ জোগান দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল। এতে ব্যক্তিঋণ কমে যাবে, যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। বাজেট–ঘাটতির এই পরিপূরণ কেন প্রয়োজন হয়ে পড়ল? কারণ, অর্থ মন্ত্রণালয় উপযুক্ত কর আদায়ে ব্যর্থ অথবা ধনিকের ঘাড়ে বেশি কর চাপিয়ে তাঁদের নাখোশ করতে চায় না। নির্বাচনী বছরে এটি আরও সত্য। কম রাজস্ব আদায় মানেই ধনিক গোষ্ঠীর পরিতুষ্টি সাধন। তার দায় চাপানো হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাঁধে, সেখান থেকে দৈত্যাকৃতি ঋণ টেনে নিয়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনিচ্ছা সত্ত্বেও তা দিতে প্রস্তুত। এ যেন বঙ্গীয় শাশুড়ির চাপে গৃহবধূর মানিয়ে চলার নীতি।

কেউ বলবেন, সরকারের ব্যাংক। সরকার যা চায়, তা–ই দেওয়া এর পবিত্র কাজ। ব্যাপারটা সে রকম নয়। কেউ হোটেল খুলে নিজেই যদি খেয়েদেয়ে শেষ করে ফেলে, তাহলে ব্যবসার ধারণা থাকে না। নিজের স্বার্থেই একটা হিসাব–নিকাশ ও জবাবদিহি থাকতে হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সৃষ্টিও এ রকম উদ্দেশ্য থেকে করা হয়েছে। প্রত্যেক সরকার নিজের স্বার্থেই কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেয়, যাতে অর্থ মন্ত্রণালয় ইচ্ছেমতো এখান থেকে টাকা নিতে না পারে। ২০০৩ সালে ভারত ‘রাজস্ব দায়িত্বশীলতা আইন’ করে দিয়েছে, যাতে রাজস্ব ঘাটতি টাকা ছাপিয়ে পূরণ করে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অর্থমন্ত্রী বাধ্য করতে না পারেন।

সে রকম একটা আইন আমাদের দেশে না হলে অর্থমন্ত্রী তাঁর অদক্ষতা ঢাকতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভান্ডারে থাবা দেবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এই ব্যাপক সরকারি ঋণ গ্রহণ এই রাজস্ব অদক্ষতার নামান্তর এবং ধনিক তুষ্টির ব্রতেই এই অদক্ষতা দিন দিন আনুপাতিকভাবে বাড়ছে।

এই পাঁচ-ছয় বছর আগে এমনও বছর গেছে, যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণ ছিল শূন্য অথবা যৎসামান্য। তখন ব্যাংকিং চ্যানেলকে পাশ কাটিয়ে সরকার উচ্চ সুদে সঞ্চয়পত্র বেঁচে বাজেট ঘাটতি মেটাত। সম্প্রতি সঞ্চয়পত্রের সোনার ডিম পাড়া বন্ধ হয়ে গেছে বলেই লাখ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে নিতে হচ্ছে। আর সুবাধ্য বালকের মতো তা পালন করবে এবারের মুদ্রানীতি। এ জন্যই এটি পরোক্ষভাবেও ধনিক বান্ধব।

৯ ভাগ ঋণহারের পটভূমি আছে কি

কোভিডের শুরুতে ২০২০–এর এপ্রিলে সব ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ৯ ভাগের টুপি পরানো হয়। সারা পৃথিবীতেই তখন সুদ হ্রাসের মাধ্যমে মুদ্রানীতির ঢিলায়ন বা ‘লুসেনিং’ শুরু হয়। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই সময়ের ঢিলায়ন ছিল যুগোপযোগী ও যুক্তিযুক্ত। কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ। ব্যবসায়ীরা ওই সময় যে খুব একটা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তার প্রমাণ নেই। বরং অনেকের অবস্থা ভালো হয়েছিল। কারণ, আমাদের ব্যবসায়ীরা নানা জাতের ব্যবসা খুলে বসেন। পরিবহন, ব্যাংক, হাসপাতাল, ওষুধ, টিভি চ্যানেল থেকে শুরু করে কী নেই সেখানে? তাতে সরকারের ওপর ‘ওলিগার্কি’ সেজে চাপ সৃষ্টি করা যায়। এই ব্যবসায়ীরা ৯ ভাগ সুদের মজা পাওয়া শুরু করেন ওই কোভিড কাল থেকেই।  কোভিড চলে গেলেও সরকার তাঁদের সেই মজা থেকে বঞ্চিত করতে চায়নি। পৃথিবী তো আর চাঁদের দেশ নয়। এখানে একটা না একটা কিছু ঘটতেই থাকে, আর সেগুলোর অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। ঋণপ্রাপ্তি, খেলাপির আবদার, টাকা পাচার করা, কর বা রাজস্ব কম দেওয়া প্রভৃতি একটার পর একটা সুবিধা আদায় করতেই থাকেন। খোদ অর্থমন্ত্রীই যদি দৈবক্রমে তাঁদের আবদারের প্রতিনিধি হয়ে যান, তাহলে তো পোয়াবারো। তিনি কিছুদিন আগেও ৯ ভাগের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন, যদিও মন্ত্রিত্বের সিলেবাস অনুযায়ী তাঁর কথা বলা উচিত করহার নিয়ে। সুদহার নিয়ে কথা বলবেন গভর্নর। ঘটমান পৃথিবীতে নিরীহ ইউক্রেনের ওপর পুতিনের আক্রমণ (বাংলাদেশে এটিকে কেন জানি ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ’ বলে চালানো হচ্ছে) এবং তা থেকে তেল ও পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, চীনের লুকানো–চাপানো করোনা কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি প্রভৃতি নানা অজুহাতে ৯ ভাগের সুবিধা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এগুলোর সঙ্গে শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের মুনাফার কোথায় কী ঘাটতি হচ্ছে, তার কোনো গবেষণা নেই। বরং অর্থনীতির কলেজ পাঠে জেনেছিলাম, মূল্যস্ফীতির সুবিধা নেন ব্যবসায়ীরা ও বিক্রেতারা। অসুবিধায় পড়ের ভোক্তারা।

ভোক্তাঋণ হারের বৃদ্ধি কতটা যৌক্তিক

ব্যবসায়ীদের মতো নিরীহ ভোক্তাদের কোনো সংগঠন নেই, যা দিয়ে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। তাই মুদ্রানীতির কষায়ন বা ‘টাইটেনিং’ হয়েছে, এমনটি দেখানোর স্বার্থে গভর্নর ভোক্তাঋণ হারের ৯ ভাগের টুপি সরিয়ে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১২ ভাগ করে দিলেন। কার ঝাল কার ওপর গিয়ে পড়ল। প্রথমত এতে মুদ্রা সরবরাহের খুব একটা কষায়ন সম্ভব হবে না। কারণ, ভোক্তাঋণ মোট ঋণের প্রায় ১০ ভাগ। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য এ থেকে হাসিল হবে না।

ভোক্তাঋণ নিয়ে থাকেন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষেরা। সামনে দুটো ঈদ। শীত আর বসন্তে বিয়ের ধুম পড়ে আমাদের সমাজে। তাঁরা ঋণ নিয়ে টিভি, ফ্রিজ, আসবাব কিংবা বিয়ের গয়নাপত্র কিনে থাকেন। তাঁদের দিকটা দেখা হলো না। শিল্পঋণ হার বাড়িয়ে বরং এই শ্রেণির মানুষের জন্য ভোক্তাঋণ হার এই উচ্চ মূল্যস্ফীতির দাবদাহে আপাতত ৯ ভাগে স্থির রাখাই হতো মুদ্রানীতির বিবেকসম্পন্ন কাজ, সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপ। এখানে গভর্নরের বিবেক গরিবের প্রতি কিছুটা অসদয়। ধনিকেরা তো আর ভোক্তাঋণ নিয়ে টিভি–ফ্রিজ কেনে না। তাঁরা ব্যাংক লুট করে বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার বাইরে নিয়ে যান—মালয়েশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও সাম্প্রতিক বাতাসে দুবাইয়ে বাড়ি কেনেন।

হিম্মত ও খেদমতের গল্প

ধরা যাক, বড়লোক শিল্পপতির নাম মিস্টার হিম্মত এবং মধ্যবিত্ত সীমিত আয়ের মানুষটির নাম মিস্টার খেদমত। গভর্নর শিল্পঋণের ওপর ৯ ভাগ ঋণহার বজায় রাখার পক্ষে যুক্তি দেখালেন। হিম্মতদের কর্মরত পুঁজি বা ‘ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল’–এর খরচ যেন না বাড়ে, সেদিকে সদয় হলেন।

হিম্মত সাহেব এই সুবিধার কারণে তার উৎপাদিত পণ্যের দাম কি কম রাখবেন? কক্ষনো নয়। বরং তাঁর উৎপাদিত ফ্রিজ বা সেলাই মেশিন বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাজারে বিদ্যমান মূল্যস্ফীতির পূর্ণ সুবিধা নেবেন। এমনকি মূল্যস্ফীতি শুরু হওয়ার আগেও তিনি যেসব পণ্য বানিয়েছিলেন, সেগুলোরও উচ্চ দাম শুষে নেবেন। এই ‘মুনাফা সর্বোচ্চকরণ’ হিম্মতদের ধর্ম।

এদিকে খেদমত সাহেবের সীমিত আয়ের ‘প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা’ কমে গেছে। তিনি সামান্য সঞ্চয়পত্রও ভাঙিয়ে খেয়েছেন বা খাচ্ছেন। গিন্নির দেওয়া তালিকা অনুযায়ী নিত্যবাজার করতে পারছেন না বলে সংসারেও অশান্তি হচ্ছে। একটা ফ্রিজ কেনার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সেখানেও বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। তাঁর ক্রেডিট কার্ডের সুদও বেড়ে যাচ্ছে। কারণ, এর ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কিছুই করণীয় নেই। খেদমত দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছেন। পাশের বাসার হিম্মত মিয়া ফুলে–ফেঁপে উঠছেন। এ যাত্রা কে থামাবে?

গভর্নর ইতিমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন, যা ডলার–সংকট মোকাবিলায় প্রশংসনীয়। ব্যাংকের খেলাপির যে পাহাড় কালক্রমে তৈরি হয়েছে, তার পেছনে অর্থনৈতিক কারণের চেয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশ্রয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ বেশি দায়ী।

এখানে ধনিক তুষ্টি ও গরিব পেষণের যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে, এর প্রতি স্রোতে বিবেককে জাগরিত করে গভর্নরকে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা চালাতে হবে। আগামী মুদ্রানীতিতে তিনি হিম্মতদের কিছুটা লাগাম টেনে ধরে খেদমতদের প্রতি সদয় হবে বলে আশা করছি।

ড. বিরূপাক্ষ পাল, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট কোর্টল্যান্ডে অর্থনীতির অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ।  (প্রথম আলো থেকে সংগৃহিত)

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।